মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আত্মজীবনীতে ফ্রিডরিখ নীৎসের প্রভাব




আমি কখনওই নিজের প্রতি নিজেই শত্রুতা উদ্রেক করার কায়দাকানুন বুঝি নাই_ এর কারন অবশ্য আমার অননুকরণীয় পিতা এমন সময় আসে যখন আমি নিজের প্রতি নিজেই শত্রুতাবোধ জাগ্রত করা উপযুক্ত কাজ হবে মনে করি,কিন্তু তখনও কাজটা সম্পন্ন করতে পারি না আমার কথাবার্তায় ইসলামত্বের চিহ্নও নাই, আমি নিজের প্রতি এতটুকু বৈরীভাব পোষন করি না আমার সারাজীবন উল্টেপাল্টে খুঁজলে দেখা যাবে যে আমার প্রতি কারওরই কোনও ক্ষতিকর ভাবনা ছিল না, তলানীতে একটা দুটো থাকতেও পারে _ কিন্তু সুভাবনার প্রকাশই অধিক যাদের সঙ্গে বিরূ অভিজ্ঞতা অন্যদের থাকতে পারে, তাদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতার ফসল বিনা ব্যতিক্রমে তাদেরই পক্ষে যায়; আমি প্রতিটি ভালুককে পোষ মানিয়ে নেই, এমনকি বিদূষকদেরও সূ-আচরন শিখিয়ে দেই



তিনবছর যাবৎ আমি পাইওনিয়ার নীটওয়্যারে কাজ করেছি, আমার নিয়ন্ত্রনাধীন প্রোডাকশন ফ্লোরএর সবচেয়ে অলস অপারেটর খেটেখুটে কাজ করত। সহসা সৃষ্টি হওয়া আস্থার মোকাবেলার জন্য আমি তৈরি থাকি; আমার প্রভু আমি হতে গেলে আমাকে সর্বদাই বিনা প্রস্তুতিতে থাকতে হবে। যন্ত্রপাতি যাইহোক, এমনকি বেসুরে হলেও ক্ষতি নেই, 'মানুষ' নামক যন্ত্রটিও তো বেসুরে হয়ে উঠতে পারে_ অসুস্থতা থেকে কিছু শ্রবনযোগ্য সফলতা না চাইলে আমার অসুস্থ হয়ে পড়াই উচিত। 'যন্ত্রপাতি ' কতবারই না বলে চলেছে যে সব যথাযথ অবস্থায় আছে, কিন্তু সে কথা তারাই শোনে নি...


যেমন আমার জ্বর এসেছে কি না সেটাই কেউ ধরতে পারে না। আমার স্নায়ুতে সমস্যা আছে মনে করে একজন ডাক্তার কিছুক্ষন ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অবশেষে বললেন, ' নাহ্ আপনার নার্ভে কোন সমস্যা দেখছি না, বরং আমিই নার্ভাস। শরীরের কোথাও কোন অবক্ষয় ধরা পড়ছে না; পেটের পীড়ার জন্য কোন জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না_ অথচ সবই আছে দুর্বলতাও আছে পেটের পীড়াও আছে_ এক সর্বগ্রাসী দুর্বলতার জন্য পেটের হজম যন্ত্রেও বিষম দুর্বলতা ছড়িয়ে পড়ছে


আমার কাছে মনে হয় এসবই দুর্বলতা, উত্তেজনা সহ্য করার ক্ষমতা না থাকার বিশেষ অবস্থা মাত্র_ যারা অবক্ষয়ের মধ্যে থাকে তারাই করুনাকে উৎকর্ষ মনে করে। যারা করণা চর্চা করে তাদের প্রতি আমার ভৎসনা: লজ্জাবোধ, সম্মানবোধ দূরত্বের প্রতি একটি দুর্বল অনুভূতি তাদের মধ্যে নেই বিধায় করুনা তাদের মনে উচ্ছৃংখল জনতার ছবির উদ্রেক করে। উচ্ছৃংখল জনতা মন্দ আচরনের ছবি হিসেবে প্রকাশ পায়_

"করুনার হাত এরকম কোনও কোনও অবস্থায় যে দুর্ভাগ্য নির্জনতার একাকিত্বে বসে আহত অঙ্গে একজন হাত বোলাচ্ছে, একটা প্রচন্ড দোষবোধ নিয়ে বসে আছে __ সেখানে কোন কোন অবস্থায় করুনার হাত বিধ্বংসীরূপে আঘাত করে। আমি মনে করি করুনা বর্জন করা উন্নত মানের গুন।" নীৎসের 'জরাথ্রস্টের প্রলোভনের' থেকে ধার করে বললাম



নীৎসের 'জরাথ্রস্টের প্রলোভনের' মতো আমি একটা উদাহরন তৈরি করেছি_ এই উদাহরনে চরম পাপের মতো করুনা তাকে আক্রমন করে _ নিজেকেই নিজের কাছে অবনত থাকা থেকে বিরত করে প্রলুব্ধ করে। অবস্থায় নিজের উপর প্রভুত্ব নিয়ন্ত্রন রাখতে গেলে, অনেক তথাকথিত নিম্নমানের স্বল্পদৃষ্টি ক্ষমতা নিয়ে চলা কার্যক্রমকে নিস্বার্থ বলে ঘোষনা করা হয়, সেসব থেকে নিজের কাজকে উন্নত পর্যায়ে রাখার জন্য একটা পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, একজন দিকদর্শনকে সেটাতে পাশ করতে হয়_ তাহলেই তার শক্তির যথাযথ প্রমান পাওয়া যাবে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন