সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৭

পান্ডুলিপি থেকে কবিতা-১






" ইকারাস বৃতান্ত "

ইকারাস বলে চিৎকার করতে করতে
প্রমিথিউস জিউস হয়ে যায়।
ওদিকে যুদ্ধকার দিনসমূহ আমরা তুলে রাখি,
আপেল মধ্যকার সায়ানাইডে।
কথিত বিষবৃক্ষে তোমাদের বেহেশতী 
হুরের ছায়া ভাসবেনা আর।
রক্তিম গ্রিসের  দিনগুলিতে হোমার 
ওডিসি হয়ে কোহেকাফ হয়ে যায়।
আর হাতরায় সাইকেল হারানোর যন্ত্রনা।


" করাতকল "

তিক্ষ্ন ক্ষুরের ব্যাথা কখনো সখনো তীর বৃদ্ধ হয়ে  করাত কলের দিকে মিলিয়ে যায়। ঝকঝকে হুইসেল বাজানো ট্রেন সমূহ সোডিয়াম বাতির নিচে অকাতরে গেয়ে ওঠে ভ্যান গো স্ট্রো স্ট্রো নাইটের পক্তিমালা। অভিসিক্ত সায়ানাড অন্ধকার গগনে অশ্বারোহী কাফেলার চোখে প্রজ্বলিত হতে দেরি  হয় না আর। কাফেলা পরবর্তী বেদুইনের বোহেমিয়ান জিবনের মৃত্যুউপত্যকার কোন দৈত্যকে শিং গজাতে দেখে নিবিড়  বলেছিল, রাইক্ষেতের পূর্বাপর ফসলের মুহম্ময়তা, যা বরাবরই টেনিস তারকার বিজয়ী হাসির মত মনে হত। অনেকটা কক্ষপথে গ্যলিলিও ভাবনার অবকাশে হয়ে যেত ব্লাকহোল।




" সেগোফিয়া বৃতান্ত ও আমাদের ব্রোথেল যাত্রা "

অতঃপর সেগোফিয়া, ব্রোথেল যেতে যেতে তোমায় শেষ দেখেছিলাম।সেখানে আরও ছিল রুমন কাফকার সাথে তোমার তীব্রতম চুম্বনদৃশ্য সমূহ।সেখানে আমরাও ছিলাম। একদল ভ্রান্তের যৌনদৃশ্য দেখতে দেখতে যখন আমরা ক্লান্ত ;নেহা তখন বলেছিল , দেখ সাবাত, পৃথিবীর কোন আধুনিকতম দিনে আমাদের কথা হবে টেলিফোনে। রুসেল আজ এই আধুনিকতম দিনে আমাদের টেলিফোনে কথা বলাকে তুমি বলছ সীমাবদ্ধতা।কিন্তু  তুমি দেখেছ
সেই থেকে প্রাগোতিহাসিক থেকে আমাদের প্রেমের রমরমা ব্যবসা। একে তুমি কোন সীমাবদ্ধতার মূল্যে বিচার করবে? চল আরেকবার সেগোফিয়াকে নিয়ে ব্রোথেলে যাওয়া যাক।



" পৃথিবী ক্রমশ দৌড়ে যাচ্ছে হাশরের পানে "

পায়ের নিচে খেলা করে একদল ভ্রান্তের যৌনদৃশ্য। দৃশ্যের পটভূমে বদলে যায় তোমাদের সান্ধ্য নগর। নগর পাশ্ববর্তী কোহেকাফের দিনে তোমরা কখনো সাইমুম ঝড় হয়ে এস না। ইতোপূর্বে তোমাদের প্রেমিকাগনের কতিপয় অর্গাজমে ভারী হওয়া বাতাশের পানে তাকিওনা আর। এসব ভাবতে ভাবতে
চল ম্যাকডিলোন্ড থেকে যাত্রা শুরু করি টেকনাফের পথে। কাফেলা থেকে চুরি করি প্রস্টিটিউটের সন্তানদের। মানুষ মূলত অন কাইন্ড অফ কন্টিনিয়াস টেন্স। পৃথিবী ক্রমশ দৌড়ে যাচ্ছে হাশরের  পানে। হাশর মূলত স্রষ্টার একটা ছলনার নাম। যেখানে প্রস্টিটিউটদের সন্তানদের  চুরির অপরাধে আমাদের বিচার হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। ভ্রান্তেরা মূলত বেশ্যাদের কখনও ছুঁয়ে দেখেনি।


" সুপ্রিয়া সংবাদ পাঠিকা "

চল ক থেকে শুরু করি কাম্যাখার উপ্যাখান। ডালিম কুমারের সাথে যাদের অবৈধ যোগাযোগ। তাদের শিরায় ঢুকে ইঁদুরের গর্ত খুড়ি। গর্তের মধ্যে লুকিয়ে রাখি কোঁজাগিরি চাঁদ। অতপর: ডালিম কুমারের কান্না থামিয়ে আমরা বরং যাত্রা করি ম্যাকডিল্যান্ড। সান্তিয়াগোর পথে যেসব নাবিকেরা যীশু হওয়ার আকাঙ্খায় ক্রমাগত আফিমের নেশায় অভ্যস্থ হয়েছিল, তাদের জন্য তৈরি করি সরাইখানা। আসন্ন দুপুরের বিসন্ন রোদে তাদের জন্য খোঁদাই করি ডাল শস্য সহ নানাবিধ কৃষি উপকরনের দৃশ্যাবলি। টেকনাফের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হতেই পারে সূর্যাস্ত এত
সুন্দর কেন? আকবরের ইতিহাস রেখে চল শেষ বারের মত দেখি আসি শাহজাহানের তাজমহল। ততক্ষনে নিজস্ব সিগ্রেটে মুখ রেখে পইপই করে বলতে পার রেসিপি নারীরা যতটা সুন্দর রান্না করে তারা মোটেও ততটা সুন্দরী নয়। এসব ভাবতে ভাবতে হয়ত প্রেমে পড়ে যেতে পার সকালের সংবাদ পাঠিকার। লক্ষ্য করে করে দেখ , যীশু হওয়ার জন্য একদা সেও আফিম খেয়েছিল।